ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

নানা কারণে মানুষের সুস্থ থাকা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে অনেক ভালো থাকতে পারেন যে কেউ। সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালেই কলা খেতে। অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে তার আগে এক মুঠো মুড়ি খান।

সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরমপানি পান করুন। গরমপানি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান এক মুঠো মুড়ি। এরপর ১৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সসারসাইজ করে কলা ও আমন্ড খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ। থাকবে না গ্যাস অম্বলের ভয়।

কলায় রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী পটাসিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম। তা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ক্ষিদে দূরে রাখে। প্রতিদিনই কলা খাওয়া যায়। কিন্তু খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে: অনেকেই মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে অনেকেই কলা বাদ দিয়ে দেন।

আমরা যে আবহাওয়া থেকে থাকি, সেই আবহাওয়াতে সবচেয়ে পুষ্টিকর ফল হল কলা। রক্তচাপ ঠিক রাখা থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা সবই দূরে রাখে কলা। এছাড়াও পাকা হলুদ কলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ব্রেকফাস্টে কলা : ব্রেকফাস্টে ডিম, টোস্ট কিংবা কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে অনেকেই কলা খান। এতে যেমন পেট ভরা থাকে তেমন পুষ্টিও পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্যই কলা খাবেন ব্রেকফাস্টে। হজমের সমস্যা থাকলেও কলা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কলা সবসময় হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে খেতে হবে। পিনাট বাটার, ইয়োগার্ট কিংবা পরিজের সঙ্গে কলা খান।

খালি পেটে কলা নয়: কলা খাওয়ার আগে একমুঠো শুকনো মুড়ি কিংবা দুটো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট অবশ্যই খান। কলাতে ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক সুগার থাকে।

আর যে কারণে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যখানে অনেক সময়ই বেশি গ্যাপ হয়ে যায়। সেই গ্যাপটা পূরণ করে দেয় কলা। কারণ কলায় থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে: পেট পরিষ্কার না হলে আরও নানা সমস্যা দেখা যায় শরীরে। যে কারণে সকালে উঠেই যাতে পেট পরিষ্কার হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতেই হবে। যাদের আলসারের মতো সমস্যা রয়েছে, যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের নিয়ম করে কলা খেতে হবে।

তবে আপনি যদি সকালে একদম খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

শরীরে পানির চাহিদা পূরণে কলা: আগের রাতে বেশি তেল মশলাদার খাবার খাওয়া হলে কিংবা একটু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল খাওয়া হয়ে গেলে পরেরদিনও তার একটা প্রভাব থেকে যায়।

কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর কলা, মধু দিয়ে তৈরি স্মুদি স্নায়ুর উত্তেজনা কমায়। যে কারণে স্মুদি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সুস্থ থাকতে।

 

আরও পড়ুন

৮ ধরনের র‌্যাশ বলে দিবে করোনার লক্ষণ

শুষ্ক কাশি থেকে শুরু করে গন্ধের অনুভূতি হ্রাস পর্যন্ত, বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে যা করোনভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। আর এবার লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডন এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িও কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে ত্বকের ৮ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ রোগে ত্বকের র‌্যাশ বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. ভেরোনিক বাটাইল বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ এর র‌্যাশ গ্যালারি তৈরি করেছি, যাতে চিকিৎসকরা এবং আগ্রহী যেকেউ এতে অ্যাকসেস করতে পারে। এটি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ র‌্যাশ শনাক্ত করতে তাদের সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় পাওয়া গেছে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িগুলো জ্বর কিংবা কাশির তুলনায় করোনার আরো বেশি পূর্বাভাস হতে ওঠতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন শিশুর করোনার কমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই র‌্যাশ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কোভিড-১৯ র‌্যাশগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে, র‌্যাশ খুব চুলকানির হলে নির্ধারিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।’

র‌্যাশের ছবিগুলো ‘কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপ’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মার্চ মাসে বিজ্ঞানীদের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।

গবেষকরা মতে, ৮ ধরনের র‌্যাশ কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ হতে পারে। কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপের তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাসের প্রায় ৯ শতাংশ রোগী তাদের শরীর বা পায়ের আঙুলে র‌্যাশের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে র‌্যাশের ঘটনা ছিল দ্বিগুণ।

যে ৮ ধরনের র‌্যাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে

১. কোভিড ডিজিটস: ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তনগুলো চিলব্রেন হিসেবে পরিচিত। কোভিড-১৯ রোগের আগে ত্বকের এ সমস্যাটি খুব বিরল ছিল। কারণ এটি কেবল হিমশীতল তাপমাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিংবা যাদের হাতের বা পায়ের আঙুলে রক্ত সঞ্চালন সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে দেখা যেত।

২. ঘাড় এবং বুকে একজিমা: এ ধরনের র‌্যাশ ঘাড় এবং বুকে দেখা দেয়। সাধারণত এটি গোলাপী রঙের হয় এবং এতে খুব চুলকানি হয়ে থাকে।

৩. ঠোঁটে ঘা: করোনার উপসর্গ হিসেবে ঠোঁটে ঘা হতে পারে। ঘা শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে উঠতে পারে। মুখের ভেতরে ব্যাথাও হতে পারে।

৪. পাপুলার এবং ভেসিকুলার: এই র‌্যাশ প্রথম লাল হিসেবে দেখা দেয় এবং শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। যেমন: কনুই এবং হাঁটুর পাশাপাশি হাত এবং পায়ের পেছনের অংশে। এটি খারাপ ঘামাচির মতো দেখাতে পারে।

. পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া: ত্বকে পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া সমস্যাটি মূলত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করা হয়, যদি বিষয়টি কখনো প্রমাণিত হয়নি। এটি সাধারণত তরুণ বয়সীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি একটি হেরাল্ড প্যাচ দিয়ে শুরু হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে গলার নিচ থেকে এবং পায়ে ছোট ছোট প্যাচ দেখা দেয়।

৬. পুরপুরিক: এ ধরনের প্যাটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যায়। কারণ এতে ত্বকে একাধিক গভীর লাল বা রক্তবর্ণ দাগ তৈরি হয়। এটি ক্ষতের মতো প্যাচগুলোর কারণ হতে পারে।

৭. আর্টিকেরিয়াল: আর্টিকেরিয়াল র‌্যাশ করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যেতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার দীর্ঘসময় পরও এই র‌্যাশ থেকে যেতে পারে। এতে ত্বক চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও ভীষণ চুলকায়। এটি হঠাৎ করে শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

৮. ভাইরাল এক্স্যান্থেম: ভাইরাল সংক্রমণে ত্বকের পরিচিত র‌্যাশ এটি। এতে লালচে দাগের অসংখ্য র‌্যাশ তৈরি হয়।

গবেষণার তথ্যমতে, এসব র‌্যাশ করোনার অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগে বা পরে ত্বকে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*