উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন ফুট স্ক্রাবার। এই মিশ্রণটি বানিয়ে কৌটোতে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। পায়ের পাতায় ভালো করে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। দেখবেন ময়লা উঠে গিয়ে পা আগের থেকে অনেক বেশি নরম হয়েছে।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখাতে গুড় না মধু

চিনি আমাদের শরীরের নানা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে দায়ী। ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি বড় কারণ। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তাদেরকে প্রথমেই চিনি বাদ দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর বদলে প্রাকৃতিক চিনি, গুড় কিংবা মধু খেতে বলা হয়।

মিষ্টি না খেয়ে কি থাকা যায়! তাই তো প্রতিদিনের চায়ের কাপে মধু বা গুড় মিশিয়ে খাচ্ছেন। মিষ্টি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করছেন গুড়। কিন্তু এই দুই স্বাস্থ্যকর উপাদান অনিয়মিত গ্রহণ করে লাভ নেই, বরং তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কোনটা বেশি উপকারী এবং প্রতিদিন কতটুকু গ্রহণ করা যাবে তা জেনে রাখাও জরুরি। বিস্তারিত প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মধু এবং গুড় চিনির বদলে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগক্ষেত্রেই আমরা এতে কতটা ক্যালোরি আছে তা খেয়াল করতে ভুলে যাই। আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তবে ক্যালোরি গণনা করা এবং ঝরানো দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গুড় কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?
গুড় আমাদের দেশীয় মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা সাদা চিনির পরিবর্তে গুড় বেছে নেন। গুড় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ১, বি ৬ এবং সি প্লাসের সমৃদ্ধ উৎস, এতে ভালো পরিমাণ ফাইবার থাকে যা টক্সিন অপসারণ করে এবং পাচনতন্ত্রকে সহজে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। দিনের শুরুতে এককাপ গরম পানি এবং গুড় দিয়ে শুরু করতে পারেন। এটি হজমশক্তি ভালো করে। গুড়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফেনলিক যৌগও রয়েছে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিনির তুলনায় গুড় কতটা স্বাস্থ্যকর?
যেহেতু স্বাদ চিনির তুলনায় কিছুটা কম, তাই বেশিরভাগ লোক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে গুড় খেয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণত এককাপ চা বা কফিতে এক চামচ চিনি খেয়ে থাকেন তবে গুড়ের স্বাদে অভ্যস্ত না হলে প্রয়োজনের তুলনায় আরও কিছু যোগ করতে হবে।

গুড়ের মধ্যে চিনির মতো ক্যালোরি থাকে। তাই গুড় বাড়িয়ে খেলে আপনি ক্যালোরি গ্রহণও বাড়িয়ে তুলছেন। গুড়ে সুক্রোজ রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। হতে পারে পুরোনো গুড়ে প্রিজারভেটিভ মেশানো। যা আবার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক নয়।

ওজন কমানোর জন্য মধু ব্যবহার
চিনি এবং মধু উভয় মিষ্টি – প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া বলে মধুকে একটু বেশিই উপকারী মনে করা হয়। চিনিতে গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজের অনুপাত হলো ৫০-৫০, যেখানে মধুতে কেবল ৩০% গ্লুকোজ এবং ৪০% এর চেয়ে কম ফ্রুক্টোজ থাকে। এতে আরও বেশ কয়েকটি অন্যান্য চিনির অণু রয়েছে যা শরীর দ্বারা হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং সবসময় ফ্যাট হিসাবে সঞ্চিত হয় না। এর অর্থ এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অসুস্থতা রোধকারী হিসাবে পরিচিত। এটি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেস খনিজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতেও কাজ করে। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে তার শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে এবং বিপাকক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

খরচ কমাতে
আপনি যদি সংযমের নিয়মটি না মেনে চলেন তবে বড় ক্ষতি করছেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এক টেবিল চামচ মধুতে ৬০-৬৪ ক্যালোরি রয়েছে যা চিনির মতোই। চিনি বা গুড়ের চেয়ে একমাত্র মধু খেলে মিলবে বেশি উপকার কারণ এটি অন্যান্য সুবিধাযুক্ত।

উপসংহার
চিনির বদলে গুড় বা মধু খাওয়া একটি ভাল অভ্যাস-যতক্ষণ না

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*